কারক ও বিভক্তির সেরা নোট

কারক পরিচিতি

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
নামপদ হল সাধারনত – বিশেষ্য ও সর্বনাম পদ।
কারক সম্পর্ক বুঝাতে – বিভক্তি ও অনুসর্গ বসে।
কারক সংস্কৃত শব্দ । এর প্রকৃতি প্রত্যয় বিশ্লেষন হল কৃ+নক। অক
কারক অর্থ – যে কাজ করে। যে ক্রিয়া সম্পাদন করে।
কারক ব্যাকরনের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়
বরীন্দ্রনাথ সম্প্রদান কারকে স্বীকার করেন না ।

কারক প্রধানত ৬ প্রকার।
১) কর্তৃকারক
২) সম্প্রদানকারন
৩) কর্মকারক
৪) করনকারকা
৫) অধিকরণ কারক
৬) অপাদান কারক

Note : শর্টকাট প্রশ্ন কারক নির্ণয়ঃ

১) কর্তৃ : কে, কারা দ্বারা প্রশ্ন করলে
২) কর্ম : কী, কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে
৩) করন: কী হতে, কী উপায়ে, কাসের দ্বারা
৪) সম্প্রদান : দান, ত্যাগ, উদ্দেশ্য বুঝালে
৫) অপাদান : উৎপন্ন, জাত, ভয়, ভীত, (-) বুঝালে / হাত, থেকে, চেয়ে বুঝালে
৬) অধিকরন : স্থান, কাল, দক্ষতা ইত্যাদি বুঝালে ।

কর্তৃকারক
কে কাকে দিয়ে প্রশ্ন করতে হবে।
এ বাক্যের ক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রধান নামই কর্তা
বাচ্যের সকল উদাহরন কর্তৃকারক
কর্মবাচ্য : পুলিশ কর্তৃক, ফেরদৌসী কর্তৃক
ভাববাচ্য: যাওয়া হল না, খাওয়া হল না আসা থাক
কর্মকর্তৃবাচ্য ঃ জল পড়ে, বাঁশি বাজে, পাতা নতে বেঁজে উঠলো
বিগত প্রশ্নঃ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে।

বিভক্তি পরিচিতি

⇒ বিভক্তি কারকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে ।
⇒ বিভক্তি হল শব্দান্তে বর্ন ও বর্ণ সমষ্টি

বিভক্তি ২ প্রকার।
c) নাম বা শব্দ বিভক্তি
২) ক্রিয়া বিভক্তি

শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার ।
১মা বিভক্তি – 0. শূন্য
২যা বিভক্তি – কে. বে
৩য়া বিভক্তি – দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক
৪র্থ বিভক্তি – কে, বে
৫মী বিভক্তি- হতে, থেকে, চেয়ে
৬ষ্ঠী বিভক্তি – র. এর
৭মী বিভক্তি – খ. য়. তে

Note : সম্প্রদান কারকে যা বিভক্তি বসে না । ৪থা বিভক্তি বসে।
** ৩য়া, ৪র্থ, ৫মী হচ্ছে অনুসর্গ

পরীক্ষা এলেই তার চোখে জল ঝরে ।
গায়ে মানে না আপনি মোড়ল ।
দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ।
টাকায় টাকা আনে।
টাকা সমস্যা ?
টাকায় টাকা আনে – কর্তা
টাকায় অসাধ্য সাধন হয় – করনে
টাকায় টাকা হয়- অপাদান
অর্থ অনর্থের মূল – অর্থ অনর্থ ঘটায়।

কর্মকারক
থাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে ৷

কর্ম কারক দুই প্রকার।
১) মুখ্য কর্ম ২) গৌণ কর্ম
রমজানকে যেতে হবে । কর্তা
রমজানকে যেতে দাও। কর্ম
রমজানকে ভয় পাই। অপাদান
রমজানের চাঁদ উঠেছে। অধিকরণ
ছাদে পানি পড়ে। অধিকরনে ৭ম
ছাদ থেকে পানি ঝরে। অপাদানে মী
হৃদয় আমার নাচিছে আজিকে অধিকরনে হয়।
মনে পরে সেই পাঠাশালা পলায়ন।
অপাদানে শূন্য টি মনে পরে সেই পাঠাশালা আগমন। অধিকরণে শূন্য
খিলিপান দিয়ে ঔষধ খাবে। অধিকরন

বিগত প্রশ্নঃ
দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক কোন বিভক্তি ? – ওয়া বিভক্তি
সর্বাঙ্গ ব্যথা ঔষধ দিবে কোথা ? – কর্ম কারক
এবারে সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। নিমিতার্থে ৬ষী
সে আমাকে ভয় পায় । অপাদান কারক
সে আমাকে ভয় পায়। কর্ম কারক

অধিকরণ কারক

স্থান / আধার, কাল/ সময় বিষয় / দক্ষতা
কালাধিকরন
তিরিশ বছর
তিনটি দিন চল ।
আষাঢ়ে বৃষ্টি পড়ে ।

আধারাধিকরন : ৩ প্রকার
১) ঐকদেশিক : নির্দিষ্ট স্থান। → আকাশে চাঁদ আছে।
২) অভিব্যাপক : পুরাটা জুড়ে। → কলসিতে পানি আছে।
৩) তে বৈষয়িক : দক্ষতা, অদক্ষতা বুঝাবে। → সে অংকে কাঁচা

ভাবাধিকরন
চিরন্তন সত্য → সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়।
ক্ষনস্থায়ী → আলোয় আঁধার কাটে।

অপাদান কারক

ভয় উৎপন্ন, ভীত, জাত, বিচ্যুৎ, গৃহীত, আরম্ভ, উদ্ভূত ইত্যাদি।
শুক্রবার থেকে স্কুল বন্ধ। অপাদান কারক
পাপ থেকে বিরত থাক। অপাদান কারক
তিলে তৈল হয়। অপাদান কারক
লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ হয়। করনকারক
* পাপীকে ধিক। কর্মকারক

বিগত প্রশ্নঃ
আমি কি ডরাই সঙ্গী ভিখারী রাঘবে ? অপাদানে ৭মী
রহিম করিমের চেয়ে ভালো। অপাদানে ৬ষ্ঠী
তুলনা বুঝালে তুলনীয় ব্যক্তি। অপাদান
সুখের চেয়ে শান্তি ভালো। অপাদানে ৬ষ্ঠী
আয়ু যেন পদ্ম পাতার নীড়। অপাদানে ৬ষ্ঠী
সুতোয় কাপড় হয়। অপাদানে ৭মী
কাপড়ে জামা হয়। করন
গাড়ি স্টেশন ছেরেছে। অপাদান
গাড়ি স্টেশনে দাড়িয়ে। অধিকরন
সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না। অপাদান
কালো মেঘে বৃষ্টি হয় । অপাদান

সম্প্রদান কারক

দান / ত্যাগ / মালিকানা ছাড়া / স্বত্ব ত্যাগ / পরকালীন উদ্দেশ্য / ভক্তি / সম্মান / শ্রদ্ধা।
ধোপাকে কাপড় ধৌত করতে দাও। কর্মে ২য়া
রেখো মা দাসেরে মনে। কর্মে ৬ষ্ঠী
সমীতিতে চাদা দাও। সম্প্রাদানে ৪র্থী
পরী ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। সম্প্রদানে ৪র্থী
বেলা যে পড়ে এল জলকে চল। সম্প্রদানে শূন্য
হজ করতে মক্কা যায়। সম্প্রদানে শূন্য
সৈন্যরা দেশ রক্ষায় যুদ্ধে গেল । সম্প্রদানে শূন্য

বিগত প্রশ্নঃ 
তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে আছি। সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
শুধু কবিতার জন্য বেঁচে আছি। সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
করিমকে রহিম গতকাল মেরেছে। কর্ম হয়।
এ রেখো মা দাসেরে মনে। কর্মে ৬ষ্ঠী
রহিম ধোপাকে কাপড় ধুতে দিল। কর্মে চারী

করণ কারক

কী দ্বারা, কীসের হতে, কী উপায়ে দিয়ে প্রশ্ন।
করন শব্দের অর্থ- যন্ত্র, সহায়, উপায়।
কর্তা যা দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করন কারক বলে ।
নীরা কলম দিয়ে লিখে। করনে শূন্য
জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। করনে ৭মী
সাত দিনে এক স্পা সপ্তাহ। করনে ৭মী

স্থান বা সময় বুঝালে করণ কারক।
=> আলোয় আঁধার দূর হয়। করণে ৭মী
ক্ষনস্থায়ী = করন
চিরস্থায়ী = অধিকরন

বিগত প্রশ্নঃ
ছেলেরা বল খেলে। করনে শূন্য
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। কর্ম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 13 =

Scroll to Top